জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জিকে গউছকে হত্যা চেষ্টা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু-
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জিকে গউছকে হত্যা চেষ্টা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
নিরাপত্তার জন্য আদালতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব জিকে গউছ জেলা কারাগারে বন্দী থাকাকালে তাকে হত্যা চেষ্টা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে হবিগঞ্জে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কাউছার আলমের আদালতে তৎকালীন জেলার শামীম ইকবাল, ডেপুটি জেলার সোহেল আহমেদ, প্রধান কারারক্ষী গজানন্দ ও তাজ উদ্দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। প্রায় ১ ঘন্টা উল্লেখিতদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিজ্ঞ আদালত। এ সময় নিরাপত্তার জন্য আদালতের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। এর আগে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে এ মামলার আসামী ইলিয়াছ মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে আগামী ৬ আগস্ট।
আসামী ইলিয়াছের নিয়োজিত আইনজীবী এনামুল হক তালুকদার আদালতে হাজির না থাকায় স্বাক্ষীদের কোন জেরা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই ঈদের দিন সকালবেলা নামাজ শেষে ফেরার পথে মেয়র জি কে গউছকে একটি লোহার রড দিয়ে আঘাত করে সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জের সুজন হত্যা মামলার আসামী ইলিয়াছ মিয়া। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তিনি মাটিতে লুঠিয়ে পড়লে কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে জেল সুপারের অফিস কক্ষে নিয়ে যায় পরে কেন্দ্রীয় কারাগারের মাধ্যমে গউছকে ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে কারাগারের সামনের সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে দলীয় নেতাকর্মীরা। ফলে হবিগঞ্জ শহর থেকে ঢাকা ও সিলেটে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। অবরোধ থেকে হরতালের ডাক দেয় বিএনপি।
কারাগারে ডিভিশন প্রাপ্ত মেয়র জি কে গউছের উপর হামলার ঘটনায় ওইদিন রাতেই হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট-এডিএম সফিউল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন এনএসআইর উপ-পরিচালক শাহ আলম, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ দেবাশীষ দাশ, সহকারী পুলিশ সুপার সাজ্জাদ ইবনে রায়হান ও জেল সুপার গিয়াস উদ্দিন। তদন্ত কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে মতামত ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে তৎকালিন জেলার শামীম ইকবাল বাদি হয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সুবেদার তাজ উদ্দিনসহ একজন হাবিলদার ও দুইজন কারারক্ষীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া জিকে গউছের উপর হামলাকারী ইলিয়াছ মিয়াকে আসামী করে একই দিন রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন জেলার শামীম ইকবাল। পরে ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  ইলিয়াছকে ৭দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
কে সেই ইলিয়াছ ঃ শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার দাউদনগর গ্রামের কনা মিয়ার পুত্র ইলিয়াছ মিয়া। ২০০৮ সালের ১৩ এপ্রিল সে দক্ষিণ লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা মরম আলীর পুত্র আলী আহমদ সুজনকে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের পর তার পিতা তাকে ত্যাজ্য করেন। এরপর সে ভারতে চলে যায়। সেখানে সে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে চুনারুঘাটের আসামপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নিজের অভিযান শেষে পুনরায় ভারতে চলে যেত। ২০১১ সালের ১৬ জুলাই সে একই রুটে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। পরে চুনারুঘাট থেকে বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বাজারে যাওয়ার জন্য সে জনৈক আব্দুল জলিলের সিএনজি চালিত একটি অটোরিক্সা ১ হাজার টাকায় ভাড়া নেয়। সন্ধ্যায় বাহুবল বাজারে পৌঁছে জলিল আর যাবে না বলে তার ভাড়া দাবি করে। এসময় ছোটন ৪শ’ টাকা দিয়ে বাকি টাকা পুটিজুরী বাজারে গিয়ে দেবে বলে চালক জলিলকে বলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ইলিয়াছ নিজেকে উল্লেখিত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী বলে পরিচয় দেয়। সাথে সাথে অটোরিক্সা চালক জলিল মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে কথা বলে। কিন্তু সে মনে করে জলিল ফোনটি পুলিশকে করেছে। আর কিছু না ভেবে সে জলিলকে ছুরিকাঘাত করতে থাকলে সে দৌড়ে গিয়ে একটি বাসায় ঢুকে। এরপর আর কিছু সে বলতে পারে না। ঘটনার পর ইলিয়াছ প্রথমে ঢাকা গিয়ে চাকুরী খুঁজতে থাকে। পরে চাকুরী না পেয়ে সিলেট ও পরে বানিয়াচঙ্গ উপজেলার মার্কুলী যায়। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। দুই হত্যা মামলার আসামী হিসাবে কারাগারে বন্দী রয়েছে ইলিয়াছ। জিকে গউছ হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জিআর ২৩৩/১৫ইং মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ মে জামিন লাভ করে সে। কিন্তু অন্য মামলায় সে কারাগারে রয়েছে। পুলিশ সম্প্রতি চার্জশীট দাখিল করলেও চার্জশীটে জখমী জিকে গউছকে সাক্ষি মানা হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি হারুনুর রশীদ সোহেল। কোর্ট ইন্সপেক্টর মোঃ কামাল হোসেন জানান, ইলিয়াছ দুই হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী। সকাল থেকেই আদালতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়। শুনানী শেষে বিকাল ৪টায় ইলিয়াছকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

-