হবিগঞ্জে বিলের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও পিলার স্থাপন বিষয়ে পলিসি ডায়ালগ কর্মশালা-
হবিগঞ্জে বিলের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও পিলার স্থাপন বিষয়ে পলিসি ডায়ালগ কর্মশালা
হবিগঞ্জের ৪টি উপজেলাসহ ৩৩ উপজেলায় জলমহালে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির জন্য খাল-বিল খনন এবং রাস্তা ব্রীজ কালভার্ট ঘাট ও হাট বাজার উন্নয়ন করা হবে
মোঃ মামুন চৌধুরী ॥ হবিগঞ্জে হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (এলজিইডি অংশ) এর উদ্যোগে প্রকল্পে হস্তান্তরিত বিলের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও পিলার স্থাপন বিষয়ে পলিসি ডায়ালগ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হবিগঞ্জ’র আওতায় পরিচালিত এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ সফিউল আলমের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন এলজিইডি সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মোঃ মহসিন, এইচএফএমএলআইপি-এলজিইডি ঢাকা উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ সানিউল হক, এনআরএম-এলজিইডি ঢাকা উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ মমতাজ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: নজরুল ইসলাম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহ মোঃ এনামুল হক, এলজিইডি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ আবু জাকির সেকান্দার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব পাল, বাহুবলের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সফিউল্লাহ, আজমিরীগঞ্জের মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদুল হক ভূইয়া প্রমুখ। কর্মশালায় এইচএফএমএলআইপি-এলজিইডি ঢাকা, মনিটরিং এন্ড ইভাল্যুয়েশান স্পেশালিস্ট আব্দুল হাই চৌধুরী প্রকল্পের মুল বিষয়বস্তু ও কর্মকান্ড পাওয়ার পয়েন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। এইচএফএমএলআইপি-এলজিইডি ঢাকা কো-অর্ডিনেটর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় এ কর্মশালায় বাহুবল, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি এবং প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রকৃত মৎস্যজীবীগণ অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৮ বছর মেয়াদী এ প্রকল্প। প্রকল্প এলাকা হচ্ছে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলার ৩৩টি উপজেলা। এরমধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার হাওর এলাকার জলমহাল সমুহ, পল্লী অবকাঠামো ও মৎস্য সম্পদ কার্যক্রম উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে।
যার ফলে জলমহালে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির জন্য খাল-বিল খনন ও অভয়াশ্রম তৈরি, জলজ উদ্ভিদের বনায়ন, বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য সম্পদ রক্ষা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে এছাড়াও প্রকল্প এলাকার রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট ঘাট ও হাট বাজার এ উন্নয়নের কাজ হবে।এ ব্যাপারে কর্মশালার সকল অংশগ্রহণকারী একমত পোষণ করেন এবং প্রকল্পটির কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে ১১০ কিলেমিটার সড়কের মধ্যে এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ২২ কিলোমিটার, চলমান রয়েছে ৪৩ কিলোমিটার। ২৫০ মিটার ব্রিজ নির্মাণের মধ্যে এ পর্যন্ত অর্জন না হলেও চলমান রয়েছে ৫৪ মিটার। ৩৮০মিটার কালভার্ট নির্মাণের মধ্যে অর্জন হয়েছে ৮৩ মিটার, চলমান রয়েছে ৪৩ মিটার। ৩৫.০০ কিলোমিটার অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণে অর্জন হয়েছে ২.০০ কিলোমিটার, চলমান রয়েছে ১৮ কিলোমিটার (প্রক্রিয়াধীন)। ৮টি বাজার নির্মাণ চলমান রয়েছে ১টি ও ৩টি ল্যান্ডিং ঘাট নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এছাড়া মৎস্য সম্পদ কার্যক্রমের মধ্যে ৪২টি বিল হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২০টি হস্তান্তরিত হয়েছে। ৪২টি বিল উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় রয়েছে। ১৫টি (৫০ কিলোমিটার) বিল সংযোগ খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৫টি (৯ কিলোমিটার) অগ্রগতিতে রয়েছে। ৫০টি বসতবাড়ির পুকুরে মাছ চাষের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২৯টিতে অগ্রগতি হচ্ছে। ১টি প্লাবনভূমিতে মাছ চাষে অগ্রগতি এসেছে। ১টি শুটকিকরণ ও ফারমেন্টেশনও অগ্রগতি হচ্ছে। ১২৬০ জনের ক্ষতিপূরণমূলক বিকল্প কর্মসংস্থানের মধ্যে ১০০ জনের অগ্রগতি হয়েছে। কর্মশালার বিলের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও পিলার স্থাপনের বিষয়ে জেলা/উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষন করেন।
উল্লেখ্য, বিলের সীমানা চিহ্নিত করে সঠিকভাবে বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের নিকট হস্তান্তর করা গেলে বিলে মৎস্যজীবীদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত হবে।
-