হবিগঞ্জে বিদ্যুতের প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন আপাতত স্থগিত-
বিদ্যুত বিভাগের দাবি প্রি-পেমেন্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। এমনকি এই ব্যবস্থায় মিটার রিডিং জটিলতা, মিটারে চুরি রোধ সহ সকল অনিয়ম দূর হবে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জে পিডিবি’র প্রি-পেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম অবশেষে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের হস্তক্ষেপে স্থগিত করা হয়েছে। গ্রাহকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য এই কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সরকারের এমন মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করার পূর্বে বিদ্যুত গ্রাহকদের সচেতন করা জরুরী। এতে বিদ্যুত বিভাগ ও জনগণের মাঝে কোন প্রকার ভুল বুঝাবুঝি থাকবে না। যেহেতু অধিকাংশ গ্রাহক এই ব্যবস্থাটি সহজভাবে নিতে পারছেন না, তাই জনগণকে এই বিষয়টি আরো অবহিত করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। তিনি আরো বলেন, জনগণকে ভৌতিক বিল এবং নানা রকম হয়রানী থেকে মুক্ত করতে প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্প গ্রহন করেছে সরকার। এদিকে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায় প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপন কার্যক্রম চালু রয়েছে। হবিগঞ্জে ২২ হাজার বিদ্যুত গ্রাহকের জন্য ২২ হাজার মিটার বরাদ্দ করা হয়। গত ১৫ আগস্টের পর থেকে হবিগঞ্জে প্রিপেমেন্ট মিটার স্থাপন শুরু হয়। পৌর এলাকায় এ পর্যন্ত ৭০০ জনকে নতুন মিটার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে শুরু হয় নানা অভিযোগ। শহরে বিদ্যুত গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ আন্দোলনের সুচনা করেন গ্রাহকরা। তারা অভিযোগ করেন প্রিপেমেন্ট মিটার ব্যবহারে তাদের সুবিধার পরিবর্তে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মিটার রিচার্জ করা মাত্রই তাদের ইউনিট কেটে যায়। হবিগঞ্জ বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ৭ হাজার টাকা দামের প্রতিটি প্রিপেমেন্ট মিটার গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে। আর এই মিটার বাবদ মাসিক ৪০ টাকা ভাড়া, ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ, ১৫ টাকা ডিমান্ড চার্জ এবং ৫ শতাংশ ভ্যাট কর্তন করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যুত বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির যোগ সাজসে একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যুতের বিল ফাঁকি দিয়ে চলেছে। এক্ষেত্রে শহরের বিভিন্ন মিল কারখানার কতিপয় মালিক বিদ্যুত বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারির সাথে বিলের টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করে চলেছে। জানা গেছে, যে সকল প্রতিষ্ঠানে মিটারের নানা কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত ইউনিট কমিয়ে দেওয়া হয়, সেই ইউনিটগুলো আবার সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও সিস্টেম লসের অজুহাত দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে একটি চক্র। এতে পিডিবির ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত বিলের চাপ পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে শহরের অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানে অবৈধ উপায়ে টমটমের ব্যাটারী চার্জ দেওয়া হয়। এই সুযোগে বিদ্যুত বিভাগের কতিপয় লোক এসব অপকর্মে টাকার বিনিময়ে সহায়তা করছে। এতে কিছু সংখ্যক টমটম মালিক-চালক লাভবান হলেও বিদ্যুত বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহারে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্যুত বিভাগের হিসাব মতে প্রতিমাসে ১৫ শতাংশ সিস্টেম লস এর মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে পিডিবি। সেই হিসেবে গত অর্থবছরে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার অর্থ হারিয়েছে সংস্থাটি। তবে সিস্টেম লস শুধু অবৈধ পথে বিদ্যুত বিল ফাঁকি নয়, বরং জাতীয় গ্রীড থেকে হবিগঞ্জে বিদ্যুত সরবরাহ, বিদ্যুত এলাকায় বিতরণ ইত্যাদি খাতে সিস্টেম লস ১০-১২ শতাংশ। অবশিষ্ট বিল ফাঁকি সহ অন্যান্য অবৈধ উপায়ে হয়ে থাকে।
সূত্র জানায় হবিগঞ্জে শুধু গ্রাহকদের কাছে বকেয়া বিল রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এছাড়াও হবিগঞ্জে বিদ্যুত বিভাগের বিলের পরিমাণ প্রতিমাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা আদায়যোগ্য হলেও ১৫ শতাংশ বকেয়া পড়ে থাকে। বিদ্যুত বিভাগের দাবি প্রিপেমেন্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। এমনকি এই ব্যবস্থায় মিটার রিডিং জটিলতা, মিটারে চুরি রোধ সহ সকল অনিয়ম দূর হবে। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ বিদ্যুত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই-আরেফীন বলেন, প্রিপেমেন্ট মিটার চালু হলে গ্রাহক হয়রানী কমে আসবে এবং গ্রাহকদের বিল পরিশোধ সহজতর হবে। বিদ্যুত বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

-
প্রথম পাতা