সরকারী অনুষ্ঠানে হামলা-বাধা দানে নজিরবিহীন ঘটনা-
দৃষ্টি আকর্ষণ...
কেয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য ও সমাজকর্মী
গত শুক্রবার বাহুবল উপজেলার মিরপুরের বেদে পল্লীতে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল পূর্ব নির্ধারিত সরকারী অনুষ্ঠান। সেখানে বাহুবল উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সরকারী অনুষ্ঠান সত্ত্বেও এ আয়োজন বন্ধ করতে সকাল হতে ভয়-ভীতি দেয় তারা মিয়া। সরকারী অনুষ্ঠানে মাইক ব্যবহারে নিষেধ দিয়ে বেদে পল্লীর সর্দারকে বলে দেয়, তারা মিয়ার কথা না শুনলে এই পল্লী হতে উচ্ছেদ হতে হবে তাকে। এসব ভয়ভীতি সত্ত্বেও আমি পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যাই। চেক বিতরণ করি। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আসরের নামাজের বিরতিতে অনুষ্ঠানে হতে বেদে পল্লী পরিদর্শন করি ও চেক প্রদান করি। এ সময় বেদে পল্লীর নারী-পুরুষ তারা মিয়ার সকাল হতে ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ে অভিযোগ করতে থাকলে, সেই বক্তব্যগুলো তারা মিয়ার ড্রাইভার তার হাতে থাকা মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করতে থাকে। যা দেখে সকলেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং ড্রাইভারের মোবাইলটি আমার হাতে তুলে দেয়। এ সময় আমি সিদ্ধান্ত দেই অনুষ্ঠান সেরে মোবাইলটিতে ধারণকৃত তথ্য এসপি হবিগঞ্জকে অবগত করবার লক্ষ্যে প্রেরণ করব। তারপরের ঘটনা সকলেরই জানা। আমার উপর ও আমার সাথে থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর অতর্কিত হামলা করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া ও তার সঙ্গী সাহেদ বাহিনী। আমরা সকলেই আহত হই। এখানেই শেষ নয়। আমার মরহুম আব্বা ভাষা সৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীকে নিয়ে, আমার পরিবারকে নিয়ে, এমনকী আমার প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় তারা মিয়া ও সাহেদ গালাগালি করতে থাকে। যা ছিল প্রকাশ্যে ও উচ্চস্বরে। এর সবকিছু উপস্থিত প্রশাসন সহ সকলেই শুনেন। এর পরপরই খবর পেলাম, অসমাপ্ত চেক বিতরণী সরকারী সভার ব্যবহারকৃত মাইক অনুষ্ঠানস্থল হতে উধাও। আমার অনুষ্ঠানে আসা অনেকের মোবাইল সেট, মানিব্যাগ চুরি গেছে।
তবে কি এসব পূর্বপরিকল্পিত ছিল?
এর আগেও আমাকে আমার সরকারী দায়িত্ব পালনে নানাভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। এটাও কী তা হলে একটি পর্ব? আমি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নই। আমাকে চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে বলেছেন। তারপরও আমি মনে করি, এ বিষয়গুলো সচেতন মহলকে আমার জানানো দরকার। আপনারা আমাকে অব্যাহতভাবে মানসিক শক্তি যুগিয়ে যাচ্ছেন।
আমার বিশ্বাস, সমাজে এখনো সুস্থ, বিবেকবান মানুষের সংখ্যাই বেশি। আমি আপনাদের সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থনা করি। ইনশাআল্লাহ, সুস্থ হয়ে আমি আমার জনগণের কাছে ফিরে যাবো। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

-
প্রথম পাতা