তারা মিয়া ও সাহেদকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ-
এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলা মামলার আসামী তারা মিয়া ও সাহেদকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীসহ নারী ইউপি সদস্যদের উপর হামলা মামলার আসামী বাহুবল উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া ও জেলা পরিষদের সদস্য আলাউর রহমান সাহেদকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর পূর্বে বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। তিনি বলেন ১০ নভেম্বর বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায় বেদে পল্লীতে মোবাইল ফোনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বাহুবল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া ও জেলা পরিষদ সদস্য আলাউর রহমান সাহেদ গং এমপি কেয়া চৌধুরীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারী প্রোগ্রামে অংশগ্রহনকারী নারী ইউপি সদস্যকে মারধোর, শ্লীলতাহানিসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। এ ব্যাপারে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পারভিন আক্তার বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামীরা কয়েকদিন ধরে উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। ইতিমধ্যে একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর করেন আদালত। এরপরও তারা ঢাকায় অবস্থান নিয়ে আত্মগোপন করেছিল। পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য এবং সব ধরণের প্রযুক্তির ব্যবহার করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়। মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জ ডিবি ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস টিম ঢাকার কদমতলীর একটি বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। সংবাদ সম্মেলনে তারা মিয়া ও সাহেদকে গ্রেফতারে দলীয় কোন প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন- পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতারে সব সময় সোচ্চার থাকে। অপরাধী যে বা যারা হোক তারা পুলিশের কাছে অপরাধী। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে কারো প্রভাবের দিকে তাকায় না।
হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ শাহ আলম জানান, বুধবার বিকেলে তারা মিয়া ও আলাউর রহমান সাহেদকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিজ্ঞ বিচারক ১০ ডিসেম্বর রিমান্ড ও জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তারা মিয়া ও সাহেদকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

-