জনগণকে নানামূখী সেবা প্রদানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো উন্নয়ন মেলা-
সরকারের উন্নয়ন চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রকৌশল ব্যাংকিং সহ সকল বিভাগের কর্মকর্তাগণ
এসএম সুরুজ আলী ॥ হবিগঞ্জ শহরের নিমতলায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত ৩দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা গতকাল শনিবার রাতে শেষ হয়েছে। সমাপনী দিনে রাত ৮টায় “বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমার সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মোঃ সফিউল আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারেক মোঃ জাকারিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ কুদ্দুছ আলী সরকার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফজলুল জাহিদ পাবেল, ডাঃ মুখলিছুর রহমান উজ্জল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ নাসিমা খানম ইভা, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নূরুল আমিন ওসমান, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলাদ্রী শেখর টিটু, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক, হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি ইয়াছিনুল হক, বিশিষ্ট সমাজসেবক আশরাফ জাহান কমপ্লেক্সের স্বত্ত্বাধিকারী আশরাফ উদ্দিন প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ রাজতৈনিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শ্রেণীর পেশার লোকজন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- এ সরকারের আমলে দেশ অর্থনীতির দিক দিয়ে তিন গুণ এগিছে। তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন সার্ধিত হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এই সরকারকে আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে।
এর পূর্বে বিকেলে জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমার সভাপতিত্বে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি উদ্যোগ ও রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে গতকাল শেষ দিনে মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থী ও সেবা গ্রহীতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগ ছিল বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। আবার অনেক যুবক-যুবতী মেলা পরিদর্শন করেছেন। স্কুল শিক্ষার্থী ও যুবক-যুবতীরা মেলা পরিদর্শনে তাদের ভাল লাগার কথা জানিয়েছেন। মেলা থেকে অনেকেই বিভিন্ন পরামর্শ নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা অনেকটা জ্ঞান অর্জন করেছেন। হবিগঞ্জ বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী রিয়া আক্তার জানায়, মেলা পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্টলের উপস্থাপনার দিকগুলো তার কাছে ভাল লেগেছে। মেলা দেখে অনেকটা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে সে। সে মনে করে পরবর্তীতে এগুলো তার জীবনে কাজে লাগবে। যেমন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্টলে চিত্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বাসা-বাড়ি, রাস্তা নির্মাণ। হাওরে খাল ও বিলের মধ্যে কিভাবে মাছ চাষ করা যায়।
গতকাল শেষ দিনে উল্লেখযোগ্য স্টলগুলোর মধ্যে বিআরটিএ হবিগঞ্জ সার্কেল, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, শায়েস্তাগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতি, হবিগঞ্জ পিডিবি স্টলে সেবা গৃহিতাদের ভিড় ছিল। বিআরটিএ, হবিগঞ্জ এর স্টলে গত ৩দিনে রেজিস্ট্রেশন সনদ, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ, পারমিট, লানার লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, ডিজিটাল রেজিঃ কার্ড প্রদান, গাড়ি পরিদর্শনসহ অনলাইনে টাকা জমা দেয়া হয়েছে। বিআরটিএ হবিগঞ্জ এর মোটরযান পরিদর্শক মোঃ হাফিজুল ইসলাম খান জানান, আমাদের স্টল ৩দিনে হাজারো লোক সেবা প্রদান করেছেন। শায়েস্তাগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতি থেকে বিশেষ অফারে ২৫৯ জন গ্রাহক নতুন বিদ্যুত সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন। পল্লীবিদ্যুত সমিতির মেম্বার সার্ভিস সামিউল আশরাফ ও কো-অর্ডিনেটর হাবিব রব্বানী জানান, আমাদের স্টলে শুধু নতুন গ্রাহকদের আবেদন জমা রাখেনি। আমরা গ্রাহকদের বিদ্যুত ব্যবহার ও এর অপচয় রোধের পরামর্শ দিয়েছি। পিডিবি স্টল থেকে ৬৩জন প্রি-পেইড মিটারে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। অফিস থেকে বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিতে হলে যেখানে ৪ হাজার টাকা প্রয়োজন। স্টলে বিশেষ অফার দিয়ে প্রতিটি সংযোগে নেয়া হয়েছে ৭৭৫ টাকা। চৌধুরী বাজারে আব্দুল লতিফ জানান, মেলার স্টলে বিশেষ সুযোগ থাকার কারণে এখান থেকে বিদ্যুত সংযোগের আবেদন করেছি। কয়েকদিনে মধ্যে পিডিবি প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুত সংযোগ প্রদান করবেন। হবিগঞ্জ পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই-আরেফিন জানান, স্টলের মধ্যে আমরা যেমন নতুন প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুত সংযোগ আবেদন গ্রহন করেছি। তেমনি গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারের উপকারিতাসহ বিদ্যুত ব্যবহারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। বিদ্যুতের অপব্যবহার যাতে না হয় সেদিকে সকলকে নজর রাখতে হবে। মেলার তিন দিনই জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্টলে নারীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ নাসিমা খানম ইভা জানান, ৩দিনে ১২শ’ নারীকে সেবা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গর্ভবতী মহিলা চেক-আপ, পুষ্টি বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের সেবা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আমরা স্টলে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে কিভাবে সেবা দেওয়া হয় সেদিক গুলো সম্পর্কেও দর্শনার্থীদের বুঝিয়েছি। মেলায় হবিগঞ্জের সকল ব্যাংকের স্টলে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে একাউন্ট করাসহ ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট মন্দির ভিত্তিক শিশু গণ-শিক্ষা গ্রহনের দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩দিনব্যাপী জাতীয় উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরই মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় জমে।
মেলার সমাপনী দিনে ২টি ক্যাটাগরিতে ৬টি স্টলকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্যে আকর্ষনীয় স্টল হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ হবিগঞ্জ প্রথম, কৃষি সম্প্রচারণ অধিদপ্তরের স্টল দ্বিতীয় ও এলজিইডি’র স্টল ৩য় স্থান অর্জন করে। সেবাদানকারী স্টল হিসেবে ১ম স্থান অর্জন করে হবিগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ, ২য় শায়েস্তাগঞ্জ পল্লীবিদ্যুত সমিতি ও ৩য় স্থান অর্জন করে হবিগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
-