লাখাইর তেঘরিয়া দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক ॥ ৮ দাঙ্গাবাজ আটক-
জুয়েল চৌধুরী/ মোঃ বাহার উদ্দিন ॥ লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামে হাওরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ দাঙ্গাবাজকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩০ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও ৩৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তেঘরিয়া গ্রামের হাওরের জমি নিয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুস শহীদের ছেলে নোমান মিয়া, মিলন মিয়া গংদের সাথে গ্রামবাসীর বিরোধ চলছিল। গ্রামবাসীর দাবি ভূমিটি গ্রামবাসীর। অপর দিকে নোমান গংদের দাবি উল্লেখিত ভূমিটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে চলে আসছিল। এর জের ধরে গতকাল দুপুরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত উভয় পক্ষে সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে লাখাই থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা ফারুক মিয়া, নোয়াব আলী, বাবু মিয়া, সালমান আহমেদ, আকরাম আলী, বিশাল মিয়া, হাবিব মিয়া, এনামুল মিয়া, আলেক মিয়া, রাহুল মিয়া, রুবেল মিয়া, সুহেল মিয়া, অলি মিয়া, হাসিব আলী ও মুহিদ মিয়াকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে এসেও আহতদের লোকজনের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ডিবি ও লাখাই থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মুহিবুর ও জয়নাল আবেদীনসহ ৭ দাঙ্গাবাজকে আটক করে লাখাই থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে লাখাই থানার ওসি বজলার রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তেঘরিয়া গ্রামের একটি হাওরে ভূমি নিয়ে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৩ পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে।

-