বানিয়াচংয়ে বজ্রপাতে হাওরে কৃষক বাড়ির আঙ্গিনায় স্কুলছাত্রী নিহত-
বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে ধর্মীয়ভাবে চলছে প্রার্থনা ॥ জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রশাসনের লিফলেট বিতরণ
তোফায়েল রেজা সোহেল, বানিয়াচং থেকে ॥ হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে বজ্রপাতে আরও একজন ধানকাটা শ্রমিক ও এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক স্থানে দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রহিম বক্সের ছেলে মিজানুর রহমান (৫০) ও সুজাতপুর ইউনিয়নের শতমুখা গ্রামের জাহির মিয়ার মেয়ে তানিয়া বেগম (১৩)।
নতুন এক দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বজ্রপাত। নিত্যদিনই বাড়ছে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা। এ নিয়ে গত একমাসে বানিয়াচংয়ে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ জন। এদের বেশির ভাগই ধান কাটা শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ, যারা উম্মুক্ত মাঠে বা হাওরে কৃষি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একের পর এক হতাহতের ঘটনায় কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতংক। তবে আপৎকালীন তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দিচ্ছে সরকার। বজ্রপাতের তান্ডব ও অতিবৃষ্টিপাত থেকে রক্ষা পেতে মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা করছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। বুধবার বাদ আসর গ্যানিংগঞ্জ জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে বজ্রপাত থেকে রক্ষাসহ নিজ কৃর্তকর্মের ক্ষমা চান। মুসল্লিদের কান্নার রোলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় মসজিদ ও আশপাশের এলাকা। তওবা ও দোয়া মাহফিল পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সভায় এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান ও ইউএনও মো. মামুন খন্দকার বক্তব্য রেখেছেন।
পিআইও প্লাবন পাল জানান, বজ্রপাতজনিত জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও জনবহুল স্থানে পোস্টার-লিফলেট বিতরণ করে জনসচেতনতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 
স্থানীয়রা জানালেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানীয় নলুয়ার হাওরে ধান কেটে বাড়ির মুখে রওনা দেন মিজানুর। এসময় ঝড়-বৃষ্টি নামলে মিজানুর বজ্রপাতের শিকার হন। স্থানীয় লোকজন মিজানুরকে হাসপাতাল নেয়ার সময় পথে তিনি মারা যান।
এদিকে তানিয়া বেগম রান্নাঘরে চুলায় ভাত রান্না করছিলেন। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে রান্নাঘর থেকে পাশের একটি নিরাপদ ঘরে যাওয়ার জন্য দৌঁড় দেন। এরই মধ্যে বজ্রপাত পড়লে কিশোরী তানিয়া প্রাণ হারান।   
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার উভয়ের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

-