নবীগঞ্জে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গ্রাহকরা-
উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ জনগণ। পবিত্র রমজান মাসে দিনেরাতে মিলে শতাধিকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া ও বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে ইফতার ও তারাবিহ নামাজ আদায়ে ব্যাঘাতসহ মানুষের সাধারণ কর্মকান্ডে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
সূত্র জানায়, হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির নবীগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে নবীগঞ্জ উপজেলার ৩৫৮টি গ্রামে প্রতিদিনই পল্লীবিদ্যুতের ভেলকিবাজী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। এতে করে একদিকে চলতি সময়ে রমজান মাসের ইফতার ও তারাবিহ নামাজে ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য শ্রেণীপেশার মানুষ পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। একদিন দুদিন নয় পল্লীবিদ্যুতের ভেলকিবাজী নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস যাবত সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার লাইনে নতুন কাজ ও পুরাতন কাজ পরিবর্তনের অজুহাতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নবীগঞ্জবাসীকে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে। সুস্পষ্ট কোন কারণ ছাড়াই প্রতিদিন বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি লুকোচুরি খেলায় জনমনে বাড়ছে মারাত্মক ক্ষোভ। এ জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা ও মান্দাতার আমলের বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটা লোডশেডিং নয় বিদ্যুত বিভ্রাট। সাধারণত বৃষ্টি বাদল বা ঝড় তুফানের দিনে এমন বিভ্রাট দেখা দেয়। কিন্তু বৃষ্টির দিন ছাড়াও এমন বিদ্যুত বিভ্রাটের বিষয়টি একেবারেই নতুন। আর নবীগঞ্জে বিদ্যুত বিভ্রাটের ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কোন কোন সময় এক মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ঘটে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। অনেক ব্যবসায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশংকায় বিদ্যুত দ্বারা চালিত মেশিন বন্ধ করে রাখেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী জনসাধারণ যেকোন সময় পল্লীবিদ্যুত সমিতির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিবেন বলে জানিয়েছেন।
-