আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর-
মঈন উদ্দিন আহমেদ ॥ আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর, মহিমান্বিত রজনী। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এ রাত। ২৬ রমজান দিবাগত রাতটি ২৭ রমজানের রাত হিসেবে বিবেচিত হয়। হাদিস শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী আজকের রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে প্রায় মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে আজ রাতে সারা দুনিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র লাইলাতুল কদর পালন করবেন। মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব অনেকাংশে মহিমান্বিত এ রাতের কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছে। পবিত্র রমজানের এ রাতে মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ এ রাতে জাগ্রত থেকে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি নফল ইবাদত করলে যে সওয়াব হবে, তা অন্য সময়ের হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে।
শবে কদরকে আরবীতে লাইলাতুল কদর বলা হয়। ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা ‘আলফ’ তথা ‘হাজার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আলফ আরবি গণনার সর্বোচ্চ সংখ্যা। লাইলাতুল কদর উম্মতে মোহাম্মদীর একক সৌভাগ্য। আর কোনো নবীর উম্মতকে এ ধরনের ফজিলতপূর্ণ কোনো রাত বা দিন দান করা হয়নি। যারা এ রাত ইবাদত করে কাটাবেন, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কারের ঘোষণা। আল্লাহ পাক চান বান্দা যেন গোনাহ ও পাপমুক্ত হয়ে তাঁর দরবারে হাজির হয়। এজন্য তিনি এ ধরনের বিশেষ তাৎপর্যময় রাতের ব্যবস্থা রেখেছেন আমাদের জন্য। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে সওয়াব হাসিল ও গুনাহ মাফের রাত হিসেবে শবে কদরের ফজিলত অপরীসীম।
এ রাত কুরআন নাযিলের রাত। এ রাতে পৃথিবীর নিকটতম আকাশে আল্লাহ তাঁর রহমত পুঞ্জিভূত করেন এবং মানুষের প্রার্থনা কবুল করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং অল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে কদরের রাতে ইবাদত করে, তার পূর্বের পাপসমূহ ক্ষমা করা হয়। (বুখারী)। তিনি আরো বলেন, চার শ্রেণির লোককে আল্লাহতায়ালা এ রাতে ক্ষমা করেন না। ১. শরাবখোর/মদ্যপ ২. মাতা-পিতার অবাধ্য নাফরমান সন্তান ৩. আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী ও ৪. অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণকারী। (আততারগীব ২য় খন্ড) এ রাত যাবতীয় অনিষ্ট ও বিপদাপদ থেকে শান্তিস্বরূপ। (ইবনে কাসীর)।
এ রাতের শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ক্ষমা চাওয়ার দোয়া। হাদীস শরীফে আছে হযরত আয়েশা (রা.) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যদি আমি বুঝতে পারি শবে কদর কোন রাত, তাহলে ওই রাতে আমি কি বলব? আল্লাহর কাছে কি চাইব? উত্তরে মহানবী (সাঃ) বলেন, তুমি বলবে, ‘আল্লাহুমা ইন্নাকা, আফুউন তুহেববুল আফওয়া, ফায়াফু আন্নি (‘হে আল্লাহ তুমি বড়ই ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে তুমি ভালোবাস, তাই আমাকে ক্ষমা করে দাও। ’) কেউ যদি জীবনে অনেক কিছু পায় কিন্তু ক্ষমা না পায়, তাহলে তার জীবন ব্যর্থ। তাই এ রাতে অন্তরকে নরম করে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়ার পূর্বে খাঁটি দিলে তওবা ইস্তেগফার করতে হয়। খাঁটি তওবার চারটি শর্ত ঃ ১. পূর্বের গুণাহ থেকে ফিরে আসা বা গুণাহ ছেড়ে দিতে হবে; ২. গুণাহর জন্য মনে মনে অনুতপ্ত হতে হবে যে, আমি বড়ই অন্যায় করেছি; ৩. ভবিষ্যতে ওই গুণাহ আর করব না বলে মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে; ৪. বান্দার কোনো হক নষ্ট করে থাকলে যথাসাধ্য সে হক আদায় করে দিতে হবে।


-
প্রথম পাতা