রমজানের হিসাব নিকাশ-
রমজান শেষ হয়ে আসছে। রহমত, মাগফিরাত ও নাযাতের অধ্যায় একে একে শেষ হয়ে গেল। খতমে কুরআন শেষ হয়ে গেছে। অনেকে মনে করেন ২৭শে রমজান রাত্রিতে খতমে তারাবীহ শেষ মানে তারাবীহ এর গুরুত্ব কমে গেছে। এটা মনে করে অনেক মুসলমান তারাবীহ আর পড়েন না। আবার অনেক আছেন এমন যে, কেনাকাটার ব্যস্ততায় জামাতে নামাজ পড়া ছেড়ে দেন বা নামাজ কাজা করে দেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। খতমে তারাবীহ শেষ মানেই তারাবীহ শেষ নয়; বরং ঈদের রাত্রের পূর্বরাত্র পর্যন্ত তারাবীহ নামাজ পড়ে যেতে হবে এবং প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজ যথাসময়ে জামাতের সাথে আদায়ে সচেষ্ট থাকতে হবে।
অনেকে আনন্দিত হচ্ছেন যে, রমজান শেষ হয়ে আসছে, রোজা রাখার কষ্ট, তারাবীহ পড়ার কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এমনটা মনে হওয়া মনের একটি রোগ। মনের অসুস্থতার লক্ষণ। প্রকৃত মুমিন এমনটা মনে করতে পারে না। কারণ মুমিন ব্যক্তি ইবাদত করার মধ্যে স্বাদ বা পুলক অনুভব করে। ইবাদত করতে পারলে খুশি, না করতে পারলে কষ্ট লাগে। আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো দরকার। ইবাদত থেকে মুক্তি পাওয়ার মধ্যে আনন্দ নয় বরং ইবাদত করতে পারার মধ্যে আনন্দের মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। হাদিস শরীফে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, ঈমানের (আমলের) স্বাদ পায় ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তায়ালাকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, ধর্ম হিসেবে ইসলামকে এবং মুহাম্মদ (সাঃ) কে নবী-রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। (মুসলিম শরীফ)
রমজান শেষ হয়ে আসছে বলে আনন্দিত না হয়ে দুঃখ বা অনুসূচনা করা উচিত যে, রমজান শেষ হয়ে গেল, আমি কতটুকু রহমত লাভ করলাম, নিজের গোনাহ কি মাফ করাতে পারলাম? বা জাহান্নাম থেকে নিজের নাম কাটাতে পারলাম কি না এটা চিন্তা করে বাকী কয়েকটা দিন বেশি বেশি করে ইবাদত বন্দেগী করে কাটাতে হবে। আর মনে মনে দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে হবে যেন মাহে রমজানের ইবাদতের যে অনুশীলন করলাম, তা যেন সারা বছর বাস্তবায়ন করতে পারি। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকল প্রকার ইবাদত-বন্দেগী কবুল করুন। আমীন!!
-
প্রথম পাতা