নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রী-সন্তানকে মারপিট ॥ ২ মাসের শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা-
আহত শিশু মারিয়া আক্তার বলে, আর না মারার জন্য বাবার পায়ে ধরি। কিন্তু আমার কথা না শুনে তিনি মাকে ও আমাকে আরও মারধোর করেন। পরবর্তীতে আমার ভাই জনি ও রনি এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধোর করার জন্য এগিয়ে যান। তারা দু’জন ঘর থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে ঘুমে থাকার আমার দুই মাসের ছোট বোন ইকরা মনিকে তুলে মাথার উপরে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বাবা
এসএম সুরুজ আলী ॥ লাখাই উপজেলার মানপুর গ্রামে স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা না পেয়ে নিজের ঔরসজাত ২ মাসের শিশুকন্যাকে আছাড় মেরে হত্যা করেছে নেশাগ্রস্ত পিতা। একই সময়ে স্ত্রী ও অন্যান্য সন্তানদেরও এলোপাতাড়ি মারপিট করেছেন তিনি। এ ঘটনায় লাখাই থানা পুলিশ নেশাগ্রস্ত ফাইজুল ইসলামকে আটক করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, মানপুর গ্রামের ফাইজুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে মারপিট করেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে তিনি নেশার জন্য স্ত্রী নুরজাহান বেগমের কাছে টাকা চান। স্ত্রী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ফাইজুল স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে। মাকে বাচাঁতে শিশুবয়সী অন্য তিন সন্তান এগিয়ে এলে তিনি তাদরকেও মারপিট করেন। এক পর্যায়ে খাটে ঘুমন্ত দুই মাসের শিশুকন্যা ইকরা মনিকে ধরে উপর থেকে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন ফাইজুল। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু ইকরা মনি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী নুরজাহান ও মেয়ে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের ২য় শ্রেণীর ছাত্রী মারিয়া বেগমকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু ইকরা মনির নিথর দেহ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু মারিয়া আক্তার বলে, আমার বাবা ফাইজুল ইসলাম আগে ঢাকায় কাজ করতেন। কিন্তু বতর্মানে ঢাকা না গিয়ে তিনি বাড়িতে বেকার বেকার জীবন যাপন করছেন এবং বিভিন্ন সময় নেশার টাকার জন্য মাকে ও আমাদের মারধোর করেন। গতকাল সকালে মার কাছে এসে গাঁজা ক্রয়ের জন্য টাকা চান। এ সময় মা টাকা না দিলে তিনি মাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন। এক পর্যায়ে আমাকে মারধোর করেন। এ সময় আর না মারার জন্য বাবার পায়ে ধরি। কিন্তু আমার কথা না শুনে তিনি আমাকে আরও মারধোর করেন। পরবর্তীতে আমার ভাই জনি ও রনি এগিয়ে আসলে তাদেরকে তিনি মারধোর করার জন্য এগিয়ে যান। এতে ভয়ে তারা দু’জন ঘর থেকে দৌঁড় দিয়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে ঘুমে থাকার আমার দু’মাসের ছোট বোন ইকরা মনিকে তুলে মাথার উপরে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বাবা। বিকেলে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার ইকরা মনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইকরা মনি’র খালা মুকুল আক্তার জানান, ফাইজুল মাদকসেবী। সে মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে মারধোর করতো। কিন্তু একজন মহিলা কিভাবে প্রতিদিন একজন পুরুষকে টাকা দেয়। সে কি উপার্জন করে নাকি। তিনি বলেন- মাদকের টাকা দিতে না পারায়ই ফাইজুল তার স্ত্রী ও সন্তানদের মারধোর করে এবং দুই মাসের কন্যা ইকরা মনিকে মাটিতে আছাড় মেরে ফেলে হত্যা করে।
হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ রাজিব চৌধুরী জানান, মৃত অবস্থায় শিশুটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটির মাথার বামদিকে এবং পিঠের দিকে জখম ছিল। এছাড়াও তার সারা শরীর কালচে রঙ ধারণ করেছিল। আমরা শিশুটির লাশের ময়না তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই জহির আলী নিহত ইকরা মনি’র লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এদিকে গতকাল রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিহত শিশু ইকরা মনি’র মা বার বার ইকরা মনি বলে আহাজারি করছেন।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি অজয় চন্দ্র দেব জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ফাইজুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশু ইকরা মনির লাশ ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
-