মাছুলিয়া এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে ॥ জেলা প্রশাসক-
এসএম সুরুজ আলী ॥ হবিগঞ্জ শহরতলীর মাছুলিয়া-কাকিয়ারআব্দা এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেই সাথে অবৈধ গৃহ নির্মাণকারীদের মধ্যে যারা প্রকৃত ভূমিহীন তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ। গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হবিগঞ্জের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন- হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাধটি অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে হবিগঞ্জ শহরবাসীকে আতংকের মধ্যে থাকতে হয়। গত বছরের ২০ জুলাই খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ শহরবাসীকে আতংকের মধ্যে রাত কাটাতে হয়েছে। সাম্প্রতিকালে আবারও খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় শহরবাসীকে আবার আতংকের মধ্যে বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে। পরবর্তীতে পানি নিচে নেমে যাওয়ায় মাছুলিয়া এলাকায় নদীর বাধ ধ্বসে অবৈধভাবে নির্মিত কয়েকটি বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁধ ঝুঁকির কারণ হিসেবে অনেকেই অবৈধ বালু উত্তোলন ও গৃহ নির্মাণকে দায়ী করেন। তিনি বলেন- বাধ সংস্কারের জন্য সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন- নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামবে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে বাঁধের উপর নির্মিত বাড়িঘরের অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও পুরাতন খোয়াই নদী দখলমুক্ত করতে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শ্রীঘ্রই পুরাতন খোয়াই নদীতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে উমেদনগরের খাল দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন- হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় খোয়াই নদীর কিবরিয়া ব্রীজ সংলগ্ন নদীর দুই পাড়ের বাধ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। এতে এই এলাকা দিয়ে নদীর বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই এলাকার অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের জন্য দাবি জানান বক্তারা। মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফজলুল জাহিদ পাভেল, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান, হারুনুর রশিদ চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা রফিক, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ ফখরুজ্জামান, সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন মামুন, জনকন্ঠের জেলা প্রতিনিধি রফিকুল হাসান চৌধুরী তুহিন, হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রদীপ দাশ সাগর, সহ-সভাপতি শাকিল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেঃ ছানু মিয়া, এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি এমএ হালিম, এশিয়ান টেলিভিশনের হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম সুরুজ আলী, এসএ টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রউফ সেলিম, সাংবাদিক মুজিবুর রহমান, এম সজলু, সাহিবুর রহমান, জাকারিয়া চৌধুরী, ইলিয়াছ আলী মাসুক প্রমূখ।

-