জনগণের জন্য কাজ করে শান্তি পাই-
বিজয় দিবসের পৃথক সভায় এমপি আবু জাহির
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেন, ২০০৫ সালে খুনীদের গ্রেনেড হামলায় অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার সাথে আমিও মৃত্যু পথযাত্রী ছিলাম। তখন ভাবতেও পারিনি আমি বেঁচে থাকব। আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শরীরে শতাধিক গুলির যন্ত্রণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিগত দুইবার আপনারা আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। বিশেষ করে ২০০৮ সালে প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে আমাকে বিজয়ী করেছিলেন। বিনিময়ে আমি দিনরাত আপনাদের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কি কাজ করেছি তা আপনাদের চোখের সামনেই। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জনগণের জন্য কাজ করতে পারলেই মনে শান্তি পাই। শুধু দোয়া করবেন আমার কাজগুলো যেন ইবাদত হিসেবে কবুল হয়। মানুষ যখন কাজ করে, বিনিময়ে ভালবাসা প্রত্যাশা করতে পারে। আমি দিনরাত কাজ করেছি বলেই আপনারা আমাকে বিভিন্ন সময়ে মূল্যায়ন করেছেন। আগামী নির্বাচনেও আপনাদের ভোট এবং ভালবাসা পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গোপায়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি আবু জাহির আরো বলেন, বিএনপির আমলে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী ছিলেন। হবিগঞ্জে দূরে থাক, তার এলাকা মৌলভীবাজারেও একটি মেডিকেল কলেজ করতে পারেননি। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে উপহার হিসেবে আপনাদের জন্য একটি মেডিকেল কলেজ নিয়ে এসেছি। হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালকে আড়াইশ’ শয্যায় উন্নীত করেছি। মেডিকেল কলেজের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে সেখানে আরো ৫শ’ শয্যার হাসপাতাল হবে। তখন আর হবিগঞ্জবাসীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা-সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে পথিমধ্যে প্রাণ হারাতে হবে না। বরং দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এখানে এসে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নসহ ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই আপনাদের জন্য একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। হবিগঞ্জের সর্বত্র উন্নয়ন হয়েছে। পিছিয়ে নেই গোপায়া ইউনিয়নও। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তাঘাট ও ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। বিশেষ করে একাধিক ব্রীজ এবং রাস্তা নির্মাণের ফলে গোপায়া ইউনিয়ন শহরে পরিণত হয়েছে। বাকী যেগুলো রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে করব ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, যতবারই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দেশের অগ্রগতি হয়। ১৯৭০ সালে জনগণ নৌকায় ভোট দিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। তখনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মানুষের ভোটের অধিকার ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। দেশকে নিয়ে গেছেন উন্নয়নের মহাসড়কে। এ সময় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান তিনি। পৃথক জনসভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনতা হাত তুলে তার বক্তৃতার প্রতি সমর্থন জানান এবং নৌকাকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার করেন।
পৃথক আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম, উপ দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ সরদার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, গোপায়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আক্তার হোসেন, আব্দুল মালেক, জালাল মেম্বার, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নজরুল ইসলাম শামীম, জাকারিয়া চৌধুরী, জাহির আহমেদ, হাজী চেরাগ আলী, আরফান হাজী, জালাল সরদার, অধ্যক্ষ রফিক আলী, কুতুব উদ্দিন, সিরাজ খান, নজরুল ইসলাম সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান খান সজল প্রমূখ।

-
প্রথম পাতা