উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে ॥ এমপি মজিদ খান-
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ-২ বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ আসনের বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান বলেছেন নারীর ক্ষমতায়ন সহ সর্বক্ষেত্রে একটি অভাবনীয় অভূতপূর্ব উন্নয়নের করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের উন্নয়নের বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। বুধবার সকালে বানিয়াচং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
বানিয়াচং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহানারা আক্তার বিউটির সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তজম্মুল হক চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জমিলা খাতুন, সাধারণ সম্পাদিকা জলী আক্তার, জেলা মহিলা যুব লীগের সভানেত্রী মজু বেগম প্রমূখ।
তিনি আরো বলেন নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার। নারীর ক্ষমতায়ন আরো বাড়াতে হবে এর কোনো বিকল্প নেই। সময় এসেছে নারীকে আরও এগিয়ে নেওয়ার। এ বিষয়টা মাথায় রেখেই আমাদের এগোতে হবে। কেউ যদি মনে করেন নারীকে অবহেলিত রেখেই সমাজের ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব- সেটা কখনও চিন্তা করাও উচিত হবে না। কারণ পুরুষের সাফল্যের পেছনেও রয়েছে নারীর অবদান। তাই এই নারী সমাজকে এখন আর পেছনে থেকে সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজে না লাগিয়ে তাদেরকেও সামনের দিকে নিয়ে এসে সরাসরি কাজে লাগাতে হবে। সম্মানের আসনে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। কোনো নারী যাতে নির্যাতিত না হয়- সেটা দেখতে হবে। নারীর সহযোগিতা ছাড়া কোনো জাতি যোগ্য নাগরিকত্ব পায় না। তাই নারীর ক্ষমতায়ন মানেই জাতির ক্ষমতায়ন।
আমাদের দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের প্রধান নারী। প্রধানমন্ত্রীও নারী। বিরোধীদলের নেতাও নারী। অপর একটি বড় রাজনীতিক দলের প্রধানও নারী। তিনিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলের নেত্রী ছিলেন। স্পিকারও নারী। বাকি আছে একজন নারী প্রেসিডেন্ট করার। সেটাও হয়তো যেকোনো সময় হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের শীর্ষ-পর্যায়ে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন সচিব, বিচারপতিও নারী আছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরে নারীরা ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশেও নারীরা ভালো করছেন। একটা সময় এ অবস্থা ছিল না। অনেক কষ্ট করেই আমাদের এখানে আসতে হয়েছে। আমাদের সমাজের নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে অনেকেই বিস্মিত হয়। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি কৌতূহলী জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হতে হয় বিদেশে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে এবং নারীর যথাযথ মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। অতীতের কোনো সরকার বাংলাদেশের রাজনীতিক ইতিহাসে ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিক ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়নে এবং নারীর মূল্যায়নে এমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। শেখ হাসিনা যতবার ক্ষমতায় এসেছেন নারীর ক্ষমতায়নে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন। এর পরের বার কেবিনেট এবং একসময় স্পিকার হিসেবে নারীর যোগ্যতার প্রমাণ তুলে ধরলেন। নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘গ্ল্যামার’-এর বিচারে বর্ষসেরা নারী মনোনীত হয়েছেন- শেখ হাসিনা।
২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতা গ্রহণের পর শেখ হাসিনার সরকার নারী উন্নয়নের জন্য নানাবিধ কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ শুরু করেন। বাংলাদেশ সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫), যেখানে জাতীয়, মাঝারি পর্যায়ের উন্নয়ন-পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে ২০২১ সাল (ভিশন ২০২১ নামেও পরিচিত) নাগাদ একটি মধ্য আয়ের রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলায় অঙ্গীকারবদ্ধ, নারীকে রাজনীতিক ও আর্থনীতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করাকে নারীর ক্ষমতায়নের প্রধানতম চালিকাশক্তি হিসাবে বিবেচনায় আনা হয়েছে। শেখ হাসিনা নারীর কার্যকর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উদ্যোগ, মাতৃত্ব ও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১, নারীর প্রতি সহিংসতা দমন, অকাল এবং বাল্যবিবাহের সমাপ্তি, রাজনীতি, প্রশাসন এবং নিরাপত্তায় প্রভৃতিতে নারীরা উল্লেখযোগ্য।
আমি মনে করি, আমরা ইতোমধ্যে নারীর ক্ষমতায়নের কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে ফেলেছি। আমরা আমাদের সমাজকে ক্ষমতায়ন করেছি, আর এ সমাজের মাধ্যমে নারীরাও ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছে। আমাদের শক্তিশালী অর্থনীতিতে নারীদের ভূমিকা রয়েছে। আমরা সরকারি কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করছি, যেখানে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমরা নারীদের নির্দেশনায় বহু প্রকল্পও আরম্ভ করেছি। আমাদের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা রয়েছে, এমনকি আমাদের সামরিক বাহিনীতেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে, পোশাকশিল্পে নারীদের অবদান অপরিসীম।
সভায় আরো বক্তৃতা করেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মনোয়ারা বেগম, নুরুন নাহার বেগম, পৈলারকান্দি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনু বেগম, মুরাদপুর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহেনা আক্তার, দৌলতপুর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিউটি রানী দাস, কাগপাশা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধনা রানী চৌধুরী, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শপ্না বেগম, খাগাউড়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নার্গিস আক্তার, পুকড়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পারভীন আক্তার, সুবিদপুর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমেনা খাতুন প্রমুখ।

-