আজ হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস-
এসএম সুরুজ আলী ॥ আজ ৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে হবিগঞ্জ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ফলে মুক্ত হয় হবিগঞ্জ জেলা। মুক্তিযোদ্ধারা ৪৭তম মুক্ত দিবস পালন করবে আজ।
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া ডাকবাংলো থেকে সারা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর বিভক্ত করা হয়। ৩নং সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন মেজর শফিউল্লাহ। শফিউল্লাহর নেতৃত্বে হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকার দুর্গম অঞ্চলগুলোতে পাকিস্তানিদের সাথে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিবাহিনী জেলা শহরের কাছাকাছি এসে পৌঁছুলে তিন দিক থেকে মুক্তিবাহিনী আক্রমণ করে। ৫ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে এবং ৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাকিস্তানি সেনা সহ রাজাকাররা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে। ওইদিন মুক্তিযোদ্ধারা হবিগঞ্জ সদর থানা কম্পাউন্ডে বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন।
হবিগঞ্জ জেলায় ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। যুদ্ধে আহত হন ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া নিরীহ অসংখ্য মানুষ নর-নারী ও মুক্তিযুদ্ধে হানাদারদের নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকারে শহীদ হন। এসব শহীদদের জন্য তেলিয়াপাড়া, ফয়জাবাদ, কৃষ্ণপুর, নলুয়া চা বাগান, বদলপুর, মাকালকান্দিতে বধ্যভূমি রয়েছে। প্রতিবছর জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট র‌্যালি, পুষ্পার্ঘ অর্পনের মাধ্যমে হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস পালন করে থাকলেও প্রশাসিনকভাবে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে না। হবিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি এই দিনটিকে প্রশাসনিকভাবে পালন করা হোক।

-