ব্যক্তির চেয়ে দল বড়-
আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে দেশরতœ শেখ হাসিনার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। তিনি আমার মতো একজন সাধারণ কর্মীকে 'সংরক্ষিত আসনে' এমপি (২০১৪-২০১৮) হিসেবে মনোনীত করেছেন, সেজন্য আমি যারপরনাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি গত ৫ বছর হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছি। সংসদ অধিবেশন ছাড়া আমি মাসের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছি আমার নির্বাচনী এলাকায়। এলাকাবাসী চেয়েছিলেন, আমি যেন 'সরাসরি' ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। সব ধরনের জরিপে আমার জনসমর্থন থাকা সত্বেও আওয়ামী লীগের বিজ্ঞ 'মনোনয়ন বোর্ড' এবারের জন্য আমার বদলে মহাজোট থেকে অন্য একজনকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেন। আমি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারাভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু, এলাকাবাসী ও আমার প্রাণপ্রিয় কর্মীবৃন্দ আমাকে নির্বাচন করার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। আমি প্রতিবারই 'না' করে দিই। কিন্তু তারা আমাকে ভালোবেসে, বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আমার নামে মনোনয়ন জমা দেন। আমি মনোনয়ন পত্র দাখিল করলে, মনোনয়ন পত্রে একটি স্বাক্ষর নেই বলে নির্বাচন কমিশনে আপিলের জন্য পাঠানো হয়। আমি প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার জন্য কোনো আপিল করিনি, কারণ নৌকা মার্কার বিপরীতে আমার অবস্থান হতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়।
হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) এলাকার আপামর জনগণ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা আর সম্মান জানিয়ে বলছি, সবার আগে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প চিন্তা আমার নেই।
তাই সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আমি আমার দল আওয়ামী লীগ, মহাজোট সর্বোপরি জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য সর্বদা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে সদা প্রস্তুত আছি এবং থাকবো। দল ও নেত্রীর নির্দেশে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে সদা সচেষ্ট থাকবো।
আপনাদের দোয়া আর দিকনির্দেশনা কামনায়,
বিনীত-
আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী

-