বাহুবলে বহাল তবিয়তে ডাঃ বাবুল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি-
‘চলতি দায়িত্ব’ প্রত্যাহারের দাবি এলাকাবাসীর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ বাবুল কুমার দাস। শুধু তাই নয়, অনিয়ম,  দুর্নীতি, বিরামহীন প্রাইভেট প্র্যাকটিস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ডাঃ বাবুলের খুঁটির জোর কোথায়? 
বিভিন্ন সূত্র জানায়, ডাঃ বাবুল কুমার দাস দীর্ঘদিন ধরে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত আছেন। কিন্তু তিনি তথ্য গোপন করে দাপ্তরিক যাবতীয় কাজে নিজেকে ওই পদের ‘মূল কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এ বিষয়ে গত বছরের ৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য  সেবা  বিভাগের পার-১ অধিশাখা থেকে যুগ্ম-সচিব মইন উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত ৪৫.১৪২.১১৬.০০.০০.০০৪.২১৫-৪৮ নং স্মারকের আদেশে ওই পদ (মূল পদবী) ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়া হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের বিষয়টি যেহেতু একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সেহেতু পদবীর শেষে ‘চলতি দায়িত্ব’ শব্দটি উল্লেখ না করা সত্য গোপন ও প্রতারণার শামিল। আগামী ৭  দিনের মধ্যে ‘চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত’ কর্মকর্তাগণ পদবীর শেষে ‘চলতি দায়িত্ব’ শব্দটি উল্লেখ না করলে তাদের বিরুদ্ধে সত্য গোপন, মিথ্যা পদবী ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রত্যাহার করা হতে পারে।
কিন্তু ডাঃ বাবুল কুমার দাস প্রায় ১ বছর ধরে মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আসছেন। তিনি ভিজিটিং কার্ড, প্রেসক্রিপসন, বিলবোর্ড ও দাপ্তরিক যাবতীয় কাজে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা’ (মূল পদবী) হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন।
তার স্বাক্ষরিত গত ২২/১২/২০১৮ইং তারিখে উস্বাক/বাহু/১৮/১১২৪/৭ নং স্মারকে ও গত ২৭/১২/১৮ইং তারিখে উস্বাক/বাহু/১৮/১১৪৪/১৬ স্মারকে সর্বশেষ দুটি অফিস আদেশেও ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা’ পদটি ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, তিনি স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দিনের অধিকাংশ সময় প্রাইভেট প্রাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সায় না দিলে অকথ্য-অশোভন আচরণ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে। সম্প্রতি তিনি তুচ্ছ অপরাধে ঝাড়–দার আনোয়ারা খাতুনের বেতন থেকে দেড় হাজার টাকা কর্তন করেন। তার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন স্যাটেলাইট ক্লিনিকের গীতা রাণী দেবসহ অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এসব বিষয় নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অসন্তোস।

-