হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগ সরব থাকলেও বিএনপি জাপাসহ অন্য দলের নেতারা নিরব-
সৈয়দ আহমদুল হক বললেন- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনগণের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে থাকতে চাই ॥ মোতাচ্ছিরুল ইসলাম বললেন- ইনশাআল্লাহ দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণ এবার আমাকে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন ॥ মশিউর রহমান শামীম বললেন- দলীয় মনোনয়ন পেলে ইনশাআল্লাহ আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবো। নির্বাচিত হলে তিনি এমপি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহিরের সাথে সমন্বয় রেখে সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন
এসএম সুরুজ আলী ॥ হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতারা সরব থাকলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের কর্মীরা নির্বাচন নিয়ে অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করছেন। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে অনেক আগ থেকে সরকারী দলের নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিতে গিয়ে ইতিপূর্বে শহরে বিশাল শোডাউন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের শরিকদল ও বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধদল জাতীয় পার্টির ১জন প্রার্থী এ উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য নিরব প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি’র পক্ষ থেকে এখনও কেউ উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় নামেননি। কারণ বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাবে কি না এ নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও আতঙ্ক এখনও কাটেনি। সারা দেশ থেকে সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করছি। এ অবস্থায় আবার উপজেলা নির্বাচন। এ নিয়ে আমরা কোনো আলোচনা করিনি। সময় হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি হয়তো উপজেলা নির্বাচনে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই সৈয়দ আহমদুল হক চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তিনি বয়সের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছেন। এরপরও তিনি নিয়মিত অফিস করার পাশাপাশি এলাকার লোকজনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আহমদুল হককে এবারও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করার জন্য তার কর্মী সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ চাপ দিয়ে আসছেন বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। তবে সৈয়দ আহমদুল হকের সমর্থনকারীরা এমন চাচ্ছেন তিনি যদি নির্বাচন না করেন তার ছেলে পইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ যেন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেন। উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে সৈয়দ আহমদুল হকের পরিবার অচিরেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ৪র্থ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ আহমদুল হক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। এ নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন বিএনপি’র প্রার্থী নুরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল। এ বছর হবিগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে শায়েস্তাগঞ্জ আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ নেয় তাহলে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে। হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে এ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সব সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে। নির্বাচনের সময়ে হবিগঞ্জবাসীর চোঁখ থাকে সদর উপজেলার নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই। ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ সদর উপজেলা। এ উপজেলার মোট ভোটার ১লাখ ৭৬ হাজার ৮৩১জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৯হাজার ১২৯ ও মহিলা ৮৭হাজার ৭০২জন। এ উপজেলার রিচি গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি নির্বাচিত হয়ে উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করেছেন। অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম, বৃন্দাবন কলেজে অনার্স মাস্টার্স চালুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন। এ উপজেলা পরিষদের বিগত নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় পর এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন এবং দলের সকল কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করছেন। এবার তিনি জোরালোভাবে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এ দু’জন ছাড়াও হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সক্রিয় কোন প্রার্থী দেখা যায়নি। অপরদিকে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান আউয়ালের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জেলা বিএনপি’র সিনিয়র নেতারাই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলা জাপার সভাপতি প্রফেসর আবিদুর রহমান। তিনি জাতীয় পার্টির চুড়ান্ত প্রার্থী হবেন বলে দলের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও দেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য ছোট ছোট দল তাদের নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে কিছুদিনের ভিতরে সিদ্ধান্ত নেবে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক বলেন- আমি উপজেলা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর সাথে রয়েছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনগণের সুখ দুঃখে তাদের পাশে থাকতে চাই। এবারও নির্বাচন করার জন্য আমাকে এলাকার লোকজনসহ আমার কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীরা চাপ দিয়ে আসছেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করবো কি না, সেই বিষয়ে শ্রীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবো। তবে সবাই চান আমি নির্বাচন করি। নিজের ছেলে মঈনুল হক আরিফ সম্পর্কে সৈয়দ আহমদুল হক বলেন- আরিফ রাজনীতিতে নবীন। শুধু ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। সময় বলে দেবে সে কখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করবে। হবিগঞ্জ চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোতাচ্ছিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। দলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহন করার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করেছি।  বিগত নির্বাচনেও দল আমাকে মূল্যায়ন করেছিল। এবার আমি দলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাবো বলে আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণ এবার আমাকে বিপুল ভোটে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম জানান, বিগত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন না দেয়ায় আমি আর নির্বাচনে অংশ নেইনি। দলের প্রার্থীর পক্ষেই আমি কাজ করেছি। অথচ বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। বিগত নির্বাচনের পর থেকে আমি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। এলাকার কোথাও কোন সমস্যা হলেই আমি সেখানে ছুটে গিয়ে সমাধান করেছি। দলের সকল কর্মকান্ডেও আমি অংশগ্রহন করছি। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে আমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এবার আমি আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেবে। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ইনশাল্লাহ আমি হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবো। মশিউর রহমান শামীম জানান, তিনি নির্বাচিত হলে এমপি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহিরের সাথে সমন্বয় রেখে সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।
-