ভিজিডি ভিজিএফসহ বিভিন্ন ভাতা বিতরণে তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি করা হয়ে থাকে-
হবিগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি আবু জাহির
ইউপি মেম্বারের সাথে আত্মীয়তা থাকার সুবাদে দরিদ্র নন এমন ব্যক্তিরা চাউল ও কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন ভাতা পেয়ে থাকেন। তারা ভিজিডি ভিজিএফ এর চাউল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে রাস্তায় কোথাও বিক্রি করে দেয়। তার অভাব না থাকায় সে ঘরে চাউল নেয় না। এ অবস্থায় প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বললেন, হবিগঞ্জকে দাঙ্গা মুক্ত করা হবে। দাঙ্গার স্থান হবে যাদুঘরে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির বলেছেন, অপ্রিয় হলেও সত্য ভিজিডি ও ভিজিএফসহ বিভিন্ন ভাতা বিতরণে তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি করা হয়ে থাকে। ইউপি মেম্বারের সাথে আত্মীয়তা থাকার সুবাদে দরিদ্র নন এমন ব্যক্তিরা চাউল ও কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন ভাতা পেয়ে থাকেন। তারা ভিজিডি ভিজিএফ এর চাউল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে রাস্তায় কোথাও বিক্রি করে দেয়। তার অভাব না থাকায় সে ঘরে চাউল নেয় না। এ অবস্থায় প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি। রবিবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি আবু জাহির আরো বলেন, হবিগঞ্জ এখন সারাদেশে মডেল জেলায় পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট, শিল্প এলাকাসহ পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। হবিগঞ্জের আধুনিক স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনার কারণে আমরা সেই উদ্যোগ নিতে পারছি না। অচিরেই দৃষ্টিনন্দন এই স্টেডিয়ামের আশপাশের ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই যে যার জায়গায় থেকে আন্তরিক থাকতে হবে। বিশেষ করে সরকারি স্থাপনাগুলোতে যেন রাতের বেলা মাদক অথবা বাজে আড্ডা না বসে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন। তাই সকলেরই উচিত আন্তরিকতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করা।
এমপি আবু জাহির বলেন, হবিগঞ্জকে আমরা উন্নয়নের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। ইতোমধ্যে নিজের শহরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছি। অনার্স মাস্টার্স কোর্স এখন আমাদের ছেলে মেয়েরা নিজের বাড়িতে বসে সম্পন্ন করতে পারছে। যে কারণে শিক্ষার হার বেড়েছে। শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় তরুণ সমাজের একাংশ বেকার রয়েছে। তারা যে কোনও অপরাধের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে। তাই হবিগঞ্জের ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সাথে সমন্বয় করে একটি জব ফেয়ার আয়োজনের পরামর্শ দেন এমপি আবু জাহির।
তিনি বলেন, মাদক হচ্ছে সমাজের জন্য অভিশাপ। এই মাদক সেবনের কারণেই যুব সমাজ জড়িয়ে যায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থেকে কাজ করতে হবিগঞ্জের পুলিশ বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেন তিনি। স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পর্কে সভার বিভিন্ন সদস্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এমপি আবু জাহির বলেন, চিকিৎসকরা হচ্ছেন সমাজের শিক্ষিত এবং সম্মানী লোক। সরকারও তাদেরকে ব্যাপক সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে কিছু সংখ্যক অসাধু লোকের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্ত করতে হচ্ছে। এটা তাদের জন্য সম্মানজনক নয়। তাই দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই সকলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমপি আবু জাহির বলেন- শহরে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীদের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তদারকি করা দরকার। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক পরিশ্রমের মাধ্যমে হবিগঞ্জের দাঙ্গা আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা থাকায় কোনও জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হলেই সামাজিক যোগাযোগ এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এলাকার দুর্নাম এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দাঙ্গাকে একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করতে হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, হবিগঞ্জ দাঙ্গা প্রবণ এলাকা। অচিরেই হবিগঞ্জের এ দুর্নাম দূর করা হবে। দাঙ্গার স্থান হবে যাদুঘরে। দাঙ্গা থাকবে ইতিহাসের পাতায়। ভবিষ্যতে একদিন শিশুরা তার অভিভাবককে প্রশ্ন করবে দাঙ্গা কি? ১৬৪ ধারায় আদালতে আসামীদের জবানবন্দী প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, যখন একজন আসামীকে বলা হয় এই অপরাধে তোমার জেল হবে, ফাঁসি হবে। এ কথা শোনার পর কোন আসামী কি সত্য কথা বলবে? এটিকে তিনি সেকেলে আইন বলে মন্তব্য করে বলেন- এ কারণে অনেক দাগী অপরাধী সঠিক জবানবন্দী দেয় না।
জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযোগ উঠে রাতের আঁধারে হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামের কাছে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। তাই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। সভায় হবিগঞ্জ শহরের যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্ষা মৌসুম উপলক্ষে শহর ও ফসল রক্ষা বাধকে শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তৃতা করেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, বিজিবি-৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম জাহিদুর রশিদ, হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাকের মো. সিকান্দার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্টে তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরীসহ সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রতিনিধি, র‌্যাবের প্রতিনিধি, আনসার, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

-
প্রথম পাতা