হবিগঞ্জ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিলেন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী-
যেসব ডাক্তার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে অবহেলা করেন তারা চাকুরি ছেড়ে চলে যান
দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল চত্ত্বরে প্রাইভেট এম্বুলেন্স থাকবে কি-না এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কমিটি গঠন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডিসি অফিস, এসপি অফিস পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে কিন্তু হাসপাতাল কেন অপরিচ্ছন্ন থাকবে এমন প্রশ্ন করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এমপি। তিনি বলেন, সরকারতো চিকিৎসা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করছে। ডাক্তারদের কোয়ার্টার দিয়েছে। উচ্চ হারে বেতন-ভাতা দিচ্ছে। সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। এরপরও চিকিৎসায় এত অবহেলা কেন? তিনি বলেন, যারা এত সুযোগ সুবিধা পেয়েও রোগীদের সেবা প্রদানে অবহেলা করেন, তারা চাইলে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে পারেন। সরকারের চাকরি করে, সুযোগ সুবিধা নিয়ে, সরকারের নাম ব্যবহার করে কনসালটেন্ট, প্রফেসর পদ পদবি নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করবেন; কিন্তু রোগীদের সেবা প্রদান করবেন না। তা মেনে নেয়া যাবে না। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে গরিব মানুষরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। তাদের চিকিৎসায় অবহেলা সহ্য করা হবে না। দালালদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জ আড়াইশ’ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএমএ সভাপতি ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ফজলুল জাহিদ পাভেল, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রথিন্দ্র চন্দ্র দেব, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী প্রমূখ।
প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী বলেন, বাজেটে সর্বোচ্চ সংখ্যক টাকা দেয়া হয় স্বাস্থ্য খাতে। ডাক্তারদের কোয়ার্টার দেয়া হয় থাকার জন্য। ডাক্তারদের বেতন কি এখন কম? ৫০ হাজার, ৬০ হাজার, ৭০ হাজার টাকার নিচে কি বেতন আছে এখন। এরপরও যদি কারো না পোষায় এই কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের আহবান থাকবে আপনারা ভলান্টিয়ার করেন। আপনারা নিজেরা গিয়ে প্র্যাকটিস করেন আলাদাভাবে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট সাহেবের প্রতি আমাদের আবেদন থাকবে, উনি অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তিত্ব, অত্যন্ত ভাল মানুষ। টাউট যেখানেই থাকুক তারা যদি আমাদের প্রশ্রয় না পায়, তারা কোনদিন হাসপাতালের আঙ্গিনায় থাকতে পারবে না? আমরা আজকে কমিটি করে দিয়েছি। আগামী মিটিংয়ে আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে পারব কি অসুবিধা, কি সুবিধা বিশেষ করে দালালদের ব্যাপার এবং মাইক্রোবাস যেগুলা এ্যাম্বুলেন্স তাদের ব্যাপারে আমরা আগামী মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
সভায় ডা: মুশফিক হুসেন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- কোন কোন ডাক্তারের পোস্টিং হবিগঞ্জে। কিন্তু তিনি কাজ করেন ঢাকায়। ফলে হবিগঞ্জবাসী ওই ডাক্তারের সেবা পায় না। এমন অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। এই সিস্টেম পাল্টাতে হবে। অন্যথায় ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও হবিগঞ্জবাসীকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন- হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালটি এখন অনেকটা রেফার হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। গ্রাম্য দাঙ্গা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলে তাদের অধিকাংশকেই রেফার করা হয় ঢাকা কিংবা সিলেটে। এ কারণে এখানে এম্বুলেন্স ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, গ্রাম থেকে আসা দরিদ্র আহত রোগীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েন। অর্থাভাবে অনেকের পক্ষেই ঢাকা বা সিলেট যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চিকিৎসক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রেসক্লাব সভাপতি। এ সময় কমিটির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন অসংখ্য বহিরাগত এম্বুলেন্স হাসপাতাল চত্ত্বর দখল করে বসে থাকে। এতে হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেই সাথে হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্যতো আছেই।
এসব বিষয় শুনে প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী হাসপাতালে দালালদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতাল চত্ত্বরে প্রাইভেট এম্বুলেন্স রাখার যৌক্তিকতা আছে কি-না এ বিষয়ে মতামত দেয়ার জন্য একটি কমিটি করে দেন। কমিটির সদস্যরা হলেন- হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জেলা প্রশাসকের মনোনীত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। ওই কমিটি আগামী মাসের সভায় এ বিষয়ে লিখিত মতামত প্রদান করবে। কমিটির মতামতের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
পরে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সাথে কথা বলেন। তিনি রোগীদের অভাব অভিযোগ শুনেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ডেকে কঠোর ভাষায় বলেন যদি পুরো হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন তো রাখবেন, না পারলে এখান থেকে চলে যাবেন। যারা পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবে তাদেরকেই এখানে আনা হবে।
-