নবীগঞ্জে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অপরাধে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড-
সিলেট থেকে দুই পতিতাকে আনা হয় দেহব্যবসা করার জন্য। রাতে ৩ জনের কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে এক নারীর সাথে ১৫ জন দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হয় 
মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ সুনামগঞ্জের ২ পতিতা, দালাল, খদ্দের ও ঘরের মালিকসহ ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৪ জনকে ৭ দিন করে ও ১ জনকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউল গণি ওসমানী।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলো- সুনামগঞ্জ জেলার উনাগাঁও গ্রামের আব্দুল মালিকের কন্যা পপি আক্তার (২২), চানঁপুর গ্রামের সুহেল মিয়ার কন্যা শান্তনা বেগম (২৪), নবীগঞ্জের পুরসত্তোমপুর গ্রামের মাসুক মিয়ার স্ত্রী শাহিদা বেগম (৫৫), একই গ্রামের কাশেম আলী, বাহুবল উপজেলার পূর্ব জারিয়া গ্রামের ছাবু মিয়ার পুত্র আব্দুল আজিজ (২৭)।
সূত্র জানায়, পপি আক্তার ও শান্তনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে সিলেট শহরে বসবাস করে আসছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাউল গান পরিবেশনের পাশাপাশি পতিতাবৃত্তি করতো। তাদের সাথে পরিচয় হয় পুরুসত্তোমপুর গ্রামের দন্ডপ্রাপ্ত শাহিদা বেগমের মেয়ের জামাই ভুতু মিয়ার। ভুতু মিয়া ও তার এক আত্মীয় মিলে পরিকল্পনা করে সিলেটের ওই দুই পতিতাকে এনে নবীগঞ্জে ব্যবসা করার। পপি জানায়, গত শুক্রবার রাতে তার পূর্ব পরিচিত নবীগঞ্জের ভুতু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৭ হাজার টাকা চুক্তি করে তারা দুই বান্ধবি ও তাদের সহকর্মী বাহুবলের আব্দুল আজিজকে নিয়ে নবীগঞ্জের পুরসত্তোমপুর গ্রামের শাহিদা বেগমের ঘরে উঠে। ওই রাতেই পতিতা পপি ও পতিতা শান্তনাকে পৃথক দুই খদ্দের চক্রের কাছে ১ রাতের জন্য বিক্রি করে ভূতু ও ইব্রাহিম নামের দুইজন। পতিতা শান্তনা জানায়, ভুতু মিয়া তাকে ওই রাতে ৩ জন তার সাথে দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হবে বলে খদ্দেরদের কাছে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ১৪/১৫ জন মিলে তার সাথে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। পরে সেখান থেকে কান্নাকাটি করে ভোরে শান্তনা চলে আসে শাহিদা বেগমের ঘরে। ওই রাতেই পতিতা পপিকে হাওর এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল অন্য খদ্দেররা। সেও দেহব্যবসার কাজ শেষ করে শনিবার সকালে সেখান থেকে চলে আসে শাহিদা বেগমের বাড়িতে। এখানে এসে তারা শাহিদা বেগম ও ভুতু মিয়াকে তাদের ঘটনার বর্ণনা দেয়। তবে তাদের নাম ঠিকানা ও স্থান সঠিক করে বলেতে পারেনি তারা। সূত্র জানায়, শনিবার সকালে পতিতা, দালাল ও খদ্দেরদের মধ্যে হট্টগোল হয়। পরে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউল গণি ওসমানীর কার্যালয়ে তাদেরকে হাজির করলে তিনি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে উল্লেখিত ২ পতিতা, দালাল, খদ্দেরসহ ৪ জনকে ৭ দিন করে এবং ঘরের মালিক শাহিদা বেগমকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। পরে বিকেলে দ-প্রাপ্তদের জেলহাজতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউল গণি ওসমানী বলেন, অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে ৫ জনকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
-