শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ ॥ কে হচ্ছেন প্রথম চেয়ারম্যান?-
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের ৪৯২তম এবং সর্বশেষ প্রতিষ্ঠা পাওয়া শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় বইছে ভোটের হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন বসে নেই। বিভিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচার প্রচারনা। হবিগঞ্জে অন্য ৮টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বাকী ছিল শায়েস্তাগঞ্জ। কে হচ্ছেন দেশের সর্বশেষ উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান, এনিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ ছিল না। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ১৮ জুন পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই উপজেলার নির্বাচন।
প্রথমবার নির্বাচিত চেয়ারম্যানের কর্মকান্ডের উপরই নির্ভর করবে নতুন এই উপজেলার উন্নয়ন আর অগ্রগতি। এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটার এবং স্থানীয় সচেতন মহল। সবদিক থেকেই যোগ্য প্রার্থীকে দেখে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে চান তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদের টানা ৭ বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ খান। প্রথম দিকে বৃটেন প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট মীর গোলাম মস্তোফার নাম শোনা গেলেও এখন তিনি মাঠে নেই।
ফারহানা চৌধুরী নামে এক ভোটার বলেন, প্রথমবার আমাদের উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই; প্রথম চেয়ারম্যানের অনুকরণেই যাতে পরবর্তী চেয়ারম্যানরা কাজ করেন। নাট্য সংগঠক ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আডভোকেট হুমায়ুন কবির সৈকত বলেন, এই ভোট শায়েস্তাগঞ্জবাসীর জন্য আবেগের ভোট। সবাই দীর্ঘদিন যাবৎ অপেক্ষা করছিলেন কবে তফসিল ঘোষনা করা হবে। এই তফসিলের খবর পেয়ে সকলেই আনন্দিত। তবে নেতা নির্বাচনে যোগ্য লোককে নির্বাচিত করা উচিত। যার মাধ্যমে উপজেলা কমপ্লেক্স বাস্তবায়নসহ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন রুমী বলেন, শায়েস্তাঞ্জ উপজেলাটি সর্বকনিষ্ট হলেও দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা এটি। কারণ এখানে গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। রেল স্টেশনসহ রয়েছে ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই উপজেলায় সরকার ঘনিষ্ট এবং পজেটিভ একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা প্রয়োজন। যে শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে এলাকার উন্নয়ন তরান্বিত করবে।
আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল বলেন, আমি সব সময়ই জনগণের সাথে ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সকল প্রয়োজনে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছি। এখনও ভোটারগণের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। বর্তমান সরকারের আমলে শায়েস্তাগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে এই উন্নয়ন কাজকে তরান্বিত করতে কাজ করে যাব। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী আহমদ খান বলেন, একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মানুষের সেবা করেছি। সুখ দুঃখে পাশে থেকেছি। ভবিষ্যতেও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাবাসীর সেবা করতে চাই। সেজন্যই আমি প্রার্থী হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল বলেন, আমি ৫ বারে ৩০ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। জনগনের সেবা করে আসছি ছাত্রজীবন থেকেই। শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন ও দাবী নিয়ে আমি বিগত সময়ে জনগনের সাথে ছিলাম। বিগত সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি কেন্দ্রে আমি জয়লাভ করেছিলাম। আশা করি নিরপেক্ষ ও শন্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করি আমি।
এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গাজীউর রহমান এমরান, ব্রাক্ষণডুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বদরুল আলম দীপন, সফিক সর্দার, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক সৈয়দ তানভীর আহমেদ জুয়েল। সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেরা সুলতানা হ্যাপি, মুক্তা আক্তার ও মমতাজ ইদ্রিছ জলি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার প্রায় ৪৬ হাজার। আগামী ১৮ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে।
প্রসঙ্গত- ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ নিউফিল্ডে আওয়ামী লীগের জনসভায় জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষনা দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী সেই দাবী মেনে নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জকে নতুন উপজেলা করা হবে বলে ঘোষনা দেন। পরে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’র বৈঠকে ৪৯২তম উপজেলা হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পদায়ন হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্সের জন্য ইতোমধ্যে বরচর এলাকায় একটি ভূমি অধিগ্রহণের কাজও এগিয়ে চলেছে।
-