হবিগঞ্জের ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান ॥ দুর্ঘটনার আশঙ্কা-
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ জেলার ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনই ঝুকিপূর্ণ। যা মোট স্কুলের ২০ শতাংশ। জেলার হাওর এলাকায় সবচেয়ে বেশী স্কুলের ভবন ঝুকিপূর্ণ। ঝুকি নিয়ে এ সকল স্কুলে প্রতিদিন পাঠদান কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পূর্বে অনেক স্কুলের ভবন পাঠদানের অনুপযোগী হলেও বিকল্প না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে এ সকল স্কুলে পাঠদান চলছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভবনে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে শ্রেণী কক্ষে। দেয়ালে ফাটল, ইট সুরকি খসে পড়া, আর দরজা জানালা বিহীন এ সকল ভবনে দিনের পর দিন চলছে পাঠদান। এসব বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও মেরামতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোনো ধরণের কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। সরেজমিনে বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের হারুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল। শ্রেণিকক্ষের ছাদের বীম, ইট-সুরকি খসে পড়ে জং ধরা রড বেরিয়ে পড়েছে। দরজা, জানালা ভাঙ্গা। স্কুল কতৃপক্ষ বলছে বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় এখানেই ঝুকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। হারুনী গ্রামের আব্দুর রহিম নামে এক অভিবাবক বলেন, বৃষ্টি এলে এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা পানির জন্য ক্লাশে বসতে পারে না। তবে কোন উপায় না থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে বাচ্ছাদেরকে এই স্কুলে পাঠাই। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ৫২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর মাঝে ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুকি পূর্ণ বলে তালিক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মাঝে হাওর অঞ্চলের বানিয়াচং উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬৩টি, এছাড়াও আজমিরীগঞ্জে ১১টি, বাহুবলে ২৪টি, নবীগঞ্জে ২২টি, মাধবপুরে ৪০টি, লাখাই উপজেলায় ৯টি, চুনারুঘাট উপজেলায় ৪০টি এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ১টি স্কুলের ভবন ঝুকিপূর্ণ।
হবিগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, জেলার ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রণয়ন করে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তবে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় আরও কয়েকটি স্কুলের ভবন ঝুকির্পণ হলেও তালিকায় আসেনি। কয়েকদিন পূর্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল হালিম ভূইয়াকে নিয়ে বেশ কিছু স্কুল পরিদর্শন করেছি। আমরা যে সকল স্কুলের ভবন ঝুকিপূর্ণ সেখানে পাঠদান করতে নিষেধ করেছি। এ ব্যাপারে এডুকেশন এন্ড ইমার্জেন্সী থেকে তহবিল এনে অস্থায়ী শেড তৈরি করে পাঠদানের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে স্কুল গুলোকে। তিনি আরও জানান, সরকার যে সকল স্কুলের ভবন ঝুকিপূর্ণ সেগুলোতে নতুন ভবন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে প্রাইমারী এডুকেশন ডেভলাপমেন্ট প্রোগাম-৪ (পিইডিবি-৪) থেকে হবিগঞ্জ জেলায় প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০৭টি স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাঝে ঝুকিপূর্ণ তালিকার বেশ কিছু স্কুল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
-