সদর হাসপাতালে নার্সের অপচিকিৎসায় প্রসূতি মহিলাসহ ২ নবজাতকের মৃত্যু-
জুয়েল চৌধুরী ॥ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নার্সের অপচিকিৎসায় শেফালী ঘোষ (৩০) নামে এক প্রসূতি মহিলার ও তার ২ অনাগত নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স ও আয়াদের সাথে রোগীর স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গতকাল সকাল ১১টার সময় সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের রাখাল ঘোষের স্ত্রী শেফালী প্রসব ব্যাথা নিয়ে ৭ মে সকালে সদর হাসাপাতালে জরুরী বিভাগে যান। এ সময় এক দালাল তাদেরকে গাইনী ওয়ার্ডের এক নার্সের কাছে নিয়ে যায়। ওই নার্স বলেন, ‘রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ, টাকা দিলে তাকে সহজে ডেলিভারী করানো যাবে। অন্যথায় সিজারিয়ান অপারেশন লাগবে। গ্রাম থেকে আসা শেফালীর স্বামী সহজে নার্সের কথায় রাজি হয়ে যান। নার্স তাকে গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করে তার তত্ত্বাবধানে মহিলার চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল সকালে প্রসূতিকে জোর পূর্বক ডেলিভারী করার চেষ্টা করলে শেফালী ও তার অনাগত ২ নবজাতক মারা যায়। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় হট্রগোল দেখা দেয়। অবশেষে নার্স ও দালাল অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, ৭ মে যখন শেফালী গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি হয় তখন তার অবস্থা খারাপ থাকায় ডাক্তার তাকে সিলেট ওসামানী মেডিকেলে প্রেরন করেন। কিন্তু  নার্স ও তার দালালরা শেফালীকে গাইনি ওয়ার্ডে রেখেই চিকিৎসা চালায়।
পরে দালাল ও নার্সকে না পেয়ে শেফালীর মৃত দেহ বাড়িতে নিয়ে যান তার স্বজনরা। যাবার সময় এ প্রতিনিধিকে জানান তারা এ ব্যাপারে দালালও নার্সের বিরুদ্ধে আইনগত আশ্রয় নিবেন।

-