আজ হবিগঞ্জ পৌরসভায় আসছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ॥ উন্নয়নের আশায় বুক বেধেছেন জনগণ-
বদরুল আলম ॥ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি একদিনের সরকারি সফরে হবিগঞ্জ আসছেন আজ। সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জ পৌরসভা আয়োজিত জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। এর আগে তিনি পিটিআইএর সামনে পৌরসভার উদ্যোগে নির্মিত কিচেন মার্কেট উদ্বোধন করবেন। হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান বলেন- মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান সফল করতে সকল ধরণের পস্তুতি নেয়া হয়েছে। শোক সভায় প্রধান বক্তা থাকবেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি, বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ খান এমপি, শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী এমপি, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ। এদিকে, বিকাল ৩টায় নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে রেলওয়ে পাকির্ং মাঠে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর আগমনে আশায় বুক বেধেছেন উন্নয়ন বঞ্চিত হবিগঞ্জ পৌরসভার জনগন। বিগত সময়ে সরকারী দলের কোন নেতা মেয়র পদে না থাকায় হবিগঞ্জ পৌরসভা বিশেষ কোন প্রকল্প পায়নি। অথচ পার্শ্ববর্তী শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় কয়েকশত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এসেছে। সম্প্রতি উপ-নির্বাচনে হবিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। ফলে সরকারের উন্নয়নের ধারায় এবার হবিগঞ্জ পৌরসভা সম্পৃক্ত হবে বলে সবাই আশায় রয়েছেন। এছাড়াও হবিগঞ্জ পৌরসভার আয়োজনে কোন অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর কোন মন্ত্রীর আগমন হচ্ছে এই জেলায়। শত বছরের পুরনো হবিগঞ্জ পৌরসভা অনেক সমস্যায় জর্জরিত। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়ঃনিস্কাশনের অভাব, পানি সরবরাহের সমস্যা, ড্যাম্পিং স্টেশনের অভাব, রাস্তাঘাটের সমস্যা ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ সুবিধার অভাব। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল শিশুদের জন্য পার্ক বা বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকা, পৌর ট্রাক টার্মিনাল, কাঁচা বাজারে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন সমস্যা। হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান দৈনিক খোয়াইকে বলেন, হবিগঞ্জ পৌরসভার সড়ক বাতিতে সোডিয়াম লাইট লাগানো, সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, পুরো শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা ও ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু, সিনেমাহল বাজারসহ কাচা বাজারে বহুতল ভবন করতে পারলে পৌরবাসী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি পুরনো পৌরভবনে একটি বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন করতে পারলে এর মাধ্যমে যেমন ব্যবসার প্রসার ঘটবে তেমনিভাবে এর মাধ্যমে পৌরসভার আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এ সকল কাজ বাস্তবায়নে মাননীয় মন্ত্রী যদি বিশেষ প্রকল্প বা বিশেষ বরাদ্ধ দেন তাহলে হবিগঞ্জ পৌরবাসী উপকৃত হবেন। হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপি দৈনিক খোয়াইকে বলেন, হবিগঞ্জ পৌরসভায় ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা খুবই জরুরী। অন্যদিকে শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য আধুনিক ড্রেন নির্মাণ করতে হবে। এ দুটি বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন বলে আমার বিশ্বাস। অন্যদিকে নতুন উপজেলা হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জে উপজেলা ভবন, উপজেলা হসাতপাতাল, স্টেডিয়াম, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী সুস্পষ্ট ঘোষণা দিবেন বলে আমি আশা করি।
-