মাধবপুরে চা বাগানে মূর্তিমান আতংকের নাম হেলাল রেলি-
মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানের আতংক ও ভয়ের অপর নাম রেলি পরিবার। এ পরিবারের মূর্তিমান আতংক প্রধানের নাম হেলাল রেলি। তার অনুশাসনের বাহিরে কেউ গেলেই তার ওপর চলত নির্যাতন। পঞ্চায়েত ও ইউপি নির্বাচনে তার মতামতের বাইরে কেউ গেলে দা হাতে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালাত। সর্বশেষ গত ১৯ ই আগস্ট রেলি বাহিনীর হাতে বলি হল তার কাকাত ভাই সুজিত রেলি। স্থানীয় ইউপি ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে সুজিত রেলি হেলালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সুজিত রেলিকে প্রাণ দিতে হয়েছে। নোয়াপাড়া চা বাগানে হেলালের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতনা। হেলালের নিজস্ব লোকবল ছিল। কেউ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই তাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করা হতো। স্থানীয় ইউপি ও বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নির্বাচনে হেলাল ও তার লোকজন অন্যায় ভাবে প্রভাব কাটাত। তার গোষ্টির কোন লোক তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকেও ছাড় দিত না। নিহত সুজিত রেলি পঞ্চায়েত কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ও ভাল লোক হিসাবে পরিচিত ছিল। গত নির্বাচনে সুজিত রেলি হেলালের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় হেলাল রেলি ও তার বাহিনীর লোকজন সুজিত রেলির ওপর হ্মিপ্ত ছিল। যে কারনে গত ১৯ আগস্ট পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধ নিয়ে হেলাল ও তার লোকজন সুজিতকে কুপিয়ে হত্যা করে বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। চা বাগানের বাসিন্দারা জানান, হেলালের ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খুলেনি। গত ১ মাস আগে হেলালের ভাতিজা রিপনের অত্যাচারে মমতা নায়েক নামে এক কিশোরি মারা যায়। এ ঘটনায় মমতার পরিবার হেলালের ভয়ে কোন বিচার চাইতে সাহস পায়নি। ২ বছর আগে হেলাল ও তার লোকজন সাবেক ইউপি সদস্য শ্যামল বুনার্জিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়। অল্পের জন্য শ্যামল বুনার্জি বেঁচে যায়। ৩/৪ বছর আগের হেলালের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মনিলাল নামে এক শ্রমিকের উপর হামলা করা হয়। এর আগে হেলালের নির্যাতনে তার ১ম গর্ভবতী স্ত্রী মারা যান। বাগানের আতংকের নাম নিরীহ শ্রমিকরা হেলাল বাহিনীর ভয়ে তটস্থ ছিল। এ কারনে হেলাল বাহিনীর অত্যাচারের মাত্রা সাধারন চা শ্রমিকের ওপর বাড়তে থাকে। সর্বশেষ তার অত্যাচারে বলি হল তার কাকাত ভাই সুজিত রেলি। হেলালের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাগানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে সাহস পেত না। চা বাগানের নেতারা জানান, সুজিত হত্যার প্রধান আসামি হেলাল সহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলত শাস্তি দিলে বাগানে সাধারন নিরীহ শ্রমিকরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
-