আবার কেন এই নৃশংসতা?-
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি শিশু দিনের সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করে। এ সময় শিক্ষকরাই থাকেন তাদের অভিভাবক। পিতা-মাতা নিশ্চিত থাকেন, তাদের সন্তানরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য আর নিরাপদ থাকছে না। অনেক জায়গায় যে শিক্ষকদের পিতার মতো সম্মান করে শিশুরা সেখানে শিক্ষকদের দ্বারাই শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এ ধরণের ঘটনা বেশ কয়েকটি ঘটেছে। তবে সম্প্রতি শিক্ষকদের দ্বারা শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কয়েকটি। প্রায় দুই সপ্তাহ পূর্বে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে হাবিবা আক্তার নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চোখ বেতের আঘাতে স্থায়ীভাবে অন্ধ করেছেন এক শিক্ষক। এনিয়ে ওই শিক্ষার্থীর পাশে না থেকে সকলেই শিক্ষককে বাঁচানোর জন্য বেআইনীভাবে চেষ্টা-তদবির করেছেন। এ ধরণের প্রচেষ্টায় বার বার এই নির্যাতনের ঘটনার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। গত শুক্রবার হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামে এক শিশুকে নির্যাতন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক। একের পর এক এই ঘটনা আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। চুনারুঘাটে একজন নেতার হাতে শিক্ষক যখন নিগৃহীত হয়েছেন তখন সকলেই শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। থানায় মামলা হয়েছে। ওই নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু শিক্ষক নিগৃহীত হলে যেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, শিক্ষার্থী নিগৃহীত হওয়ার পর এই ধরণের কার্যকর কোনও পদক্ষেপ না নেয়ায় বার বার অঘটন ঘটে চলেছে। এ ব্যাপারে এখনই কোনও পদক্ষেপ না নিলে শিশুরা ভয় এবং আতঙ্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবে। এতে করে সরকারের যে সবার জন্য শিক্ষার উদ্যোগ তা ভেস্তে যাবে বলে আমরা মনে করি।

-