লাখাই ইউনিয়ন নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীর ছড়াছড়ি, বিএনপিতে দুই নাম

প্রথম পাতা

বাহার উদ্দিন, লাখাই থেকে ॥ কেউ ঘুরছেন গ্রামে গ্রামে, অনেকেই ফেসবুকে, আবার কিছু প্রার্থী চালিয়ে যাচ্ছেন গোপনে প্রচারণা। লাখাই উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ যে যার কৌশল অনুযায়ী মাঠে নেমে পড়েছেন। চায়ের দোকান, খেলার মাঠ ও কাজের ফাঁকে প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন ভোটাররাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ইউনিয়নটিতে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় প্রতীক নৌকার জন্য আশায় আটজনেরও বেশি প্রার্থী। লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মাঠে রয়েছেন বিএনপি অনুসারীরাও। তবে এ দল থেকে এলাকায় শোনা যাচ্ছে শুধু দুই প্রার্থীর নাম।
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এলাকায় যাদের নাম প্রচার হচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শরীফ উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মহিবুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা এবং ইউপি সদস্য শৌকত আকবর, অ্যাডভোকেট শাকিউল আলম সানি।
বিএনপি থেকে শোনা যাচ্ছে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ রুপম এবং ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মান্নানের নাম।
এদিকে লাখাই ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম জেলা ও উপজেলা থেকে বর্ষার চার মাস প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে। এই ইউনিয়নেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ লাখাই বাজার। বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া ওই বাজারে যাওয়া যায় না। একটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে; তাও লোকবলের অভাবে অচল প্রায়। ফলে ওই সময় ইউনিয়নের বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহান। অথচ দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি থাকা সত্ত্বেও কোন জনপ্রতিনিধি তাদের কষ্ট লাঘব করতে পারেননি। তাই তারা এবার এমন প্রার্থী নির্বাচন করতে যান যিনি কি না উন্নয়নে স্বাক্ষম।
স্থানীয় কয়েকজনের সাথে আলাপ করলে তারা দৈনিক খোয়াইকে জানান, লাখাই ইউনিয়নে ১৫টি গ্রাম। বর্ষায় প্রায় চার মাস সব গ্রামই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়। প্রতিটি গ্রামেই যেতে দরকার হয় নৌকা। কিন্তু সন্ধ্যা ছয়টার পর নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর কাউকে হাসপাতালে নেওয়ার দরকার হলেও সহজে নৌকা পাওয়া যায় না। অনেক সময় পরদিন সকাল সাতটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অথচ মাত্র ছয় কিলোমিটার সড়ক উঁচু করে নির্মাণ করলেই এ সমস্যার সমাধান হতো। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এ দাবি জানিয়ে এলেও তা উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। তাই তারা এবার এমন একজন জনপ্রতিনিধি যান, যিনি উচ্চ মহলে যোগাযোগ করে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *